মাহে রমজানে কিছু পড়ার জন্য সহীহ হাদিস (২)
- আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা বলেন, হে আদম সন্তান! যতক্ষণ তুমি আমার কাছে দু'আ করতে থাকবে এবং আমার কাছে প্রত্যাশা করবে ততক্ষণ আমি তোমার গুনাহ মাফ করতে থাকব, তা তোমার গুনাহের পরিমাণ যত বেশি যত বড়ই হোক । এ ব্যাপারে আমি কোন তোয়াক্কা করবো না । হে আদম সন্তান! তোমার গোনাহের পরিমাণ যদি আকাশ পর্যন্ত পোঁছে যায় এবং তুমি যদি আমার কাছে মাফ চাও, তাহলে আমি তোমাকে মাফ করে দেব। এ ব্যাপারে আমি কোন পরোয়াই করবো না । হে আদম সন্তান! যদি তুমি আমার কাছে পৃথিবীর সমান গোনাহসহ হাযির হও এবং আমার সাথে কাউকে শরীক না করে থাকো, তাহলে আমিও ঠিক পৃথিবীর সমান ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে এগিয়ে যাবো । সহীহ আত-তিরমীযিঃ তাহকীক - আলবানী (হাঃ ২৮০৫/ ৩৫৪০)
- আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ এক মুসলিমের উপর অন্য মুসলিমের পাঁচটি হক (অধিকার) রয়েছে। সালামের উত্তর দেয়া, রোগাক্রান্তকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় শরীক হওয়া, দাওয়াত গ্রহণ করা এবং হাঁচির জবাব দেয়া (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা)। (মুত্তাফাকুন 'আলাইহি) (বুখারীঃ ১২৪০, মুসলিমঃ ২১৬২)
- আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "যখন কোন ব্যক্তি ভুলবশত কিছু খেয়ে বা পান করে ফেলবে, তখন সে যেন তার রোজা (না ভেঙে) পূর্ণ করে নেয়। কেননা, আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন এবং পান করিয়েছেন।" (বুখারী ১৯৩৩, ৬৬৬৯, মুসলিম ১১৫৫)
- আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি নিবেদন করলাম, "হে আল্লাহ্র রাসুল! আপনি বলুন, যদি আমি (ভাগ্যক্রমে) শবে ক্বদর জেনে নিই, তাহলে তাতে কোন দোয়া পড়ব?" তিনি বললেন, এই দোয়া, "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউবুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ ফু আন্নী।" অর্থাৎ, হে আল্লাহ্! নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা ভালবাসো। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। (তিরমিযী ৩৫১৩, হাসান সহীহ)
- আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যার অন্তরে অণু পরিমান অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা।” এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলঃ যদি কেউ সুন্দর জামা আর সুন্দর জুতা পরিধান করতে ভালবাসে? তখন নবী করীম (সা) বললেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। অহংকার মানে হল সত্য প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা।” (সহীহ্ মুসলিম; কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়ঃ ১, হাদীস নম্বরঃ ১৬৪)
- আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিদের তোমরা গালি দিও না। কেননা যা কিছু তারা করেছে তার ফলাফল প্রাপ্তির জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে। (বুখারীঃ ১৩৯৩)
- রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিন প্রকার মানুষ রয়েছে যাদের চোখ জাহান্নাম দেখবে না, (১)যারা আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দেয়, (২) যারা আল্লাহর ভয়ে কাঁদে এবং (৩) যারা গায়ের-মাহরাম নারীকে দেখে চোখ নিচু করে। (আত-তারগীব, ৪৭১৩)
- আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মুর্খের মত কাজ করবে না। যদি কেউ তাঁর সাথে ঝগড়া করতে চায়, তাঁকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুই বার বলে, আমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের গন্ধের চাইতেও উৎকৃষ্ট, সে আমার জন্য আহার, পান ও কামাচার পরিত্যাগ করে। সিয়াম আমারই জন্য। তাই এর পুরষ্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশ গুন।(সহীহ বুখারী: ১৭৭৩
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন