রমজানের পড়ন্ত সময়ে পড়ার জন্য কিছু সহীহ হাদিস (৪)

 রমজানের পড়ন্ত সময়ে পড়ার জন্য কিছু সহীহ হাদিস (৪)

১।

আব্দুল্লাহ্ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেছেন, “যার অন্তরে অণু পরিমান অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনাএক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলঃ যদি কেউ সুন্দর জামা আর সুন্দর জুতা পরিধান করতে ভালবাসে? তখন নবী করীম (সা) বললেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ্সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন অহংকার মানে হল সত্য প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা (সহীহ্মুসলিম; কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়ঃ , হাদীস নম্বরঃ ১৬৪)
২।
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ তোমাদের দেহ মুখমন্ডলের প্রতি ফিরেও দেখেন না, বরং তোমাদের অন্তরও আমলের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন (মুসলিমঃ২৫৬৪)
৩।
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মানুষের ভেতর দু'টি ত্রুটি থাকলে তা তাদের কুফরীর কারণ হয়ঃ বংশের প্রতি দোষারোপ করা এবং মৃতের জন্য বিলাপ করা (মুসলিমঃ ৬৭)
৪।
 হযরত আবু কাতাদাহ সালামী (রা) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে বসার আগে সে যেন দুই রাকাত নামায পরে নেয় 
(বুখারীঃ প্রথম খন্ড, অধ্যায়ঃ ০৮ (নামায), হাদীসঃ ৪৩৫)
৫।
জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে লোক মানুষকে দয়া করে না, তাকে আল্লাহ তা'আলা দয়া করেন না (বুখারীঃ ৬০১৩,৭৩৭৬, মুসলিমঃ ২৩১৯)

 *** নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশক ইতিকাফ করতেন। তাঁর ওফাত পর্যন্ত এই নিয়মই ছিল। এরপর তাঁর সহধর্মিনীগণও (সে দিনগুলোতে) ইতিকাফ করতেন।
(সহীহ বুখারীঃ ১৮৯৯)
 ***
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের মধ্যম দশকে ইতিকাফ করতেন। এক বছর এরূপ ইতিকাফ করেন, যখন একুশের রাত এল, যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ইতিকাফ হতে বের হবেন, তিনি বললেনঃ যারা আমার সঙ্গে ইতিকাফ করেছে তারা যেন শেষ দশক ইতিকাফ করে। আমাকে স্বপ্নে এই রাত (লাইলাতুল কদর) দেখানো হয়েছিল। পরে আমাকে তা (সঠিক তারিখ) ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে, ঐ রাতের সকালে আমি কাদা-পানির মাঝে সিজদা করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ কর। পরে এই রাতে আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষিত হল, মসজিদের ছাদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনির। ফলে মসজিদে টপটপ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। একুশের রাতের সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কপালে কাদা-পানির চিহ্ন আমার দু’চোখ দেখতে পায়।
(সহীহ বুখারীঃ ১৯০০)
 







মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মাহে রমজানে কিছু পড়ার জন্য সহীহ হাদিস (১)

মাহে রমজানে পড়ার জন্য কিছু সহীহ হাদিস (৩)